
দুমকি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালীর দুমকিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর পেটের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে মাটি কাটায় বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের কিল, ঘুষি ও লাথির শিকার হন ওই নারী। তলপেটে লাথির আঘাতে ওই গৃহবধুর অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়।
গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দুমকি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার দুমকি গ্রামের চান মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া, কামাল মিয়া গংদের সাথে প্রতিবেশী বিপ্লব আকন, বশির আকন গংদের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিরোধীয় জমিতে প্রতিপক্ষের মাটি কাটায় বাঁধা দিতে গেলে কামাল মিয়া বেধরক মারধরের শিকার হয়। তাকে (স্বামী কামাল মিয়া) বাঁচাতে অন্তসত্ত্বা স্ত্রী রুমা বেগম এগিয়ে গেলে বশির আকনের স্ত্রী কঁচি আক্তার এলোপাথারী কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এসময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে এসে গৃহবধু রুমা বেগমকে ধরাধরি করে বাড়িতে আনে। পরে গুরুতর অসুস্থ হলে গৃহবধু রুমা বেগমকে পটুয়াখালী পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ১০ টার দিকে রুগীর অবস্থার অবনতি হয়ে পড়লে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরি বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। রুগীর অবস্থা এতই খারাপ যে বরিশাল পর্যন্ত নেওয়া অনেক ঝুঁকি। তাই নিরুপায় হয়ে স্হানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশন করে। গর্ভেও মৃত সন্তান বের করা হয়। পুনরায় চিকিৎসার জন্য ১০/৪/২৫ রাতে রুগী রুমা বেগম কে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। লাশ পোস্ট মোডেম করার জন্য পাঠানো হইছে।
ভুক্তভোগীর ভাশুর জামাল মিয়া মৃত নবজাতকের লাশ সামনে রেখে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি আমরা ৫০বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছি যার দলিল ও পর্চা আমাদের নামে। প্রতিপক্ষ বিপ্লব আকন, বসির আকন ও বশির আকনের স্ত্রী কঁচি আক্তার ওই জমিতে মাটি কাটতে গেলে আমরা বাঁধা দেই। তখন বশির আকন ও তাঁর স্ত্রী কঁচি আক্তার আমার ভাই কামালকে মারধর করলে কামালের ৭মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রী রুমা বেগম তার প্রতিবাদ করলে বশির আকন ও তাঁর স্ত্রী কচি আক্তারের সাথে হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় বশির আকনের স্ত্রী কঁচি আক্তার রুমার পেটে লাথি মারে। লাথির আঘাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবং আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে গর্ভের সন্তান মৃত জানতে পারে। পরে পটুয়াখালীর একটি ক্লিনিকে বুধবার রাতে সিজারের মাধ্যমে মৃত্যু বাচ্চাকে বের করে আনা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী রুমা বেগমের জাল আসমা বেগম বলেন, আমার দেবর কামাল মিয়াকে প্রতিবেশী বশির আকন ও তার স্ত্রী কঁচি আক্তার মারধর করলে কামালের অন্তঃসত্তা স্ত্রী রুমা বেগম প্রতিবাদ করলে বশির আকনের স্ত্রী কচি বেগম তার তলপেটে লাথি মারে। পরে ব্যথা শুরু হলে পটুয়াখালীর একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে একটি মৃত্যু সন্তানের জন্ম হয়।
ভুক্তভোগী রুমার শশুর চান মিয়া বলেন, আমার ছেলের কোন সন্তান নাই। আল্লাহ আমার পুত্রবধূর পেটে একটি পুত্র সন্তান দিয়েছিল। সেই সন্তানকে তারা লাথি মেরে মেরে ফেলেছে।
ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী সুলতান হাওলাদারের স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, দূর থেকে মারামারি দেখেছেন। তবে কে কাকে মেরেছেন তা তিনি বলতে পারেননা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত কচি আক্তারের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কচি আক্তারের স্বামী বশির আকন বলেন, ওইদিন এরকম কোন মারামারির ঘটনাই ঘটেনি। তাঁদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আঃ জলিল জানান, কামালের বাবা চাঁন মিয়া মৃত বাচ্চার কথা তাকে জানিয়েছেন। তিনি সরেজমিন গিয়ে মৃত বাচ্চা দেখেছেন।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। মারামারির ঘটনা তাঁর জানা নাই এবং এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগও করেননি।