
দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
নান্দাইল উপজেলার তারঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা অবৈধ পাথর ব্যবসার বিরুদ্ধে সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিনা সাত্তার। এই পদক্ষেপকে স্থানীয় পরিবেশবাদী এবং সচেতন মহল “অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ” বলে মন্তব্য করেছেন।
২৩ জুলাই ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে জব্দ করা হয় কয়েক কোটি টাকার পাথর, বোল্ডার, অবৈধভাবে স্থাপিত ক্রাশার মেশিন ও পেলুডার। এরপর ২৯ জুলাই সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, এই জব্দকৃত মালামাল “যেখানে যেমন আছে” ভিত্তিতে প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হবে, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও বিধিমালানুযায়ী প্রক্রিয়া।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পাথর ভাঙার কারণে মারাত্মক শব্দ দূষণ, ধুলা-বালি ছড়িয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। শিশুরা অসুস্থ হচ্ছিল, কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছিল, এমনকি পানি ও বায়ু দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তারঘাট কলেজের শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই ব্যবসায় অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত, আমরা সেটা বুঝি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলবে। ইউএনও যেটা করেছেন, সেটি সাহসিকতার প্রতীক।”
ইউএনও শারমিনা সাত্তার বলেন, “পরিবেশ আইন ও প্রশাসনিক নিয়মনীতি ভেঙে কোনো ব্যবসা চলতে পারে না। সরকার কাউকে বঞ্চিত করতে চায় না, তবে বৈধ কাগজপত্র, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া এসব ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের বৈধ কাগজ আছে, তারা আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবসা চালাতে পারবেন। তবে কারও প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজে আসবে না। পরিবেশ ও জনগণের স্বার্থ সবার আগে।”
তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে কিছু শ্রমজীবী পরিবার চাপে পড়েছে, স্বীকার করছে প্রশাসন। ইউএনও জানান, “আমরা চাই, যাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।”
তারঘাট এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা হয়েছে। নয়তো পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যেত। অবৈধতার নামে আর অনিয়ম চলতে দেওয়া যায় না।”
এই পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর হতে পিছপা হয় না। ইউএনও শারমিনা সাত্তারের মতো সাহসী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকলে বাংলাদেশ আরও দূষণমুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।