
দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান এবং সেতু সচিব মাঈনউদ্দিন আবদুল নূর।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে তারা স্পিডবোর্ডযোগে ভাঙন কবলিত জিরো পয়েন্ট, পুরাতন ফেরিঘাটসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তাদের সঙ্গে ছিলেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মিজ তাহমিনা বেগম ও জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় ।
পরিদর্শনের সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক স্থানীয় নারী-পুরুষ “স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই”, “আমাদের দাবি মানতে হবে”—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলো তাদের আর্তনাদে সচিবদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ভাঙনে ঘর হারানো মাঝিরঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল ফকির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাতের আঁধারে আমাদের ঘর ভেঙে নদীতে নিয়া গেল। বাচ্চাগো নিয়া কোথায় থাকমু? কয়দিন বালুর বস্তা ফেলে ছবি তুলা হয়, কিন্তু বাঁধ হয় না। আমরা চাই স্থায়ী বেড়িবাঁধ।”
একই এলাকার রাশেদা বেগম বলেন, “প্রতিবার লোক আসে, দেখে যায়, কিন্তু কাজ হয় না। আমরা আর চাই না আশ্বাস, চাই কাজ। নদী নিয়া গেছে জমি, ঘর, এখন মানুষ নিয়া যাবে!”
আরেক বাসিন্দা বাচ্চু মাদবর বলেন, “এই এলাকায় কবে যে টেকসই বাঁধ হবে, কে জানে। প্রতিবারই একই কথা শুনি। আমরা চাই এবার শেষ সিদ্ধান্ত নিক সরকার। না হলে আমরা সবারে লইয়া সড়কে নামবো।”
পানি সম্পদ সচিব নাজমুল আহসান সাংবাদিকদের জানান, “এখানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। অস্থায়ী সমাধান নয়, স্থায়ী প্রতিরোধই হবে লক্ষ্য।”
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগেই প্রায় ২০০ মিটার রক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মানুষজন।
সচিবদের এই পরিদর্শনে এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও তারা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য—“প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই প্রতিরোধ।”