
স্টাফ রিপোর্টারঃ
পদ্মা সেতুর রক্ষা বাঁধে প্রায় ২০০ মিটার অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙ্গনের কারণে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার তিনটি গ্রামের অন্তত ৬০০ পরিবার পদ্মার ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙ্গনের আতঙ্কে এরই মধ্যে দুইটি গ্রাম এবং ১৩ টি বসর ঘর ও দুটি দোকান ঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে দিন সকালে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এদিকে যেখানে মানুষ ঈদের খুশিতে মেতে ওঠবে তার পরিবর্তে জাজিরা পদ্মা পাড়ের মানুষ হতাশায় আতঙ্কে দিন যাপন করছেন পদ্মার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে।
বুধবার (১১জুন)পদ্মা সেতুর ভাঙ্গন পরিদর্শনে আসেন, বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা। তিন উপদেষ্টার আসার কথা থাকলেও এক উপদেষ্টা শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। পরিদর্শনে যে দুজন আসেন তারা হলেন, সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড.সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে পানি ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়া এই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় পদ্মার পাড় পরিদর্শন শেষে দৈনিক মানব কণ্ঠকে জানান, বাঁধের কিছু অংশ ভাঙ্গনের কারণে স্থানীয়দের মনে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিতরা এরই মধ্যে তাদের ঘর সরিয়ে নিয়েছেন এবং উপজেলা প্রশাসন তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে
পাউবোর সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে সেতু থেকে মাটির দিকে 2 কিলোমিটার এলাকায় ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে সেই বাঁধের সঙ্গেই নদী শাসনের বাঁধ সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।
শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, পদ্মা সেতুর রক্ষা বাঁধটির কিছু অংশ সংস্কার কাজ চলছিল। নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু অংশ ভেঙেছে যা ঠেকাতে গত রোববার থেকে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
এই ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন, সেতু উপদেষ্টা মোঃ ফাওজুল কবির। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা অতি দ্রুত এর স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যক্রম শুরু করব। যাতে কোন মানুষের ঘরবাড়ি নদীতে ভিলীন হয়ে যাওয়ার মত দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।
এ ভাঙ্গন স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।