
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় শিক্ষকদের হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক, সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিনকে হুমকি দিয়ে আসছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউনুচ হাওলাদারের নেতৃত্বে কতিপয় দুর্বৃত্ত বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিনকে খুঁজতে থাকে। তখন প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে হাজিরা খাতা নিয়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিনকে সরিয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক নজির আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ইতিমধ্যে বখতিয়ার উদ্দিনকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করেছে। বর্তমানে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার জন্য বখতিয়ার উদ্দিনের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রোববার দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের অফিসে ঢুকে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, রোববার সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে বিদ্যালয়ে আসতে আমার কিছুটা বিলম্ব হয়। এ সুযোগে ইউনুচ হাওলাদার ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম দলবল নিয়ে এসে হাজিরা খাতা নিয়ে যায়।
পরে আবার ফিরে এসে দৃত বিদ্যালয় ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়ে যায়। অন্যথায় প্রাণে মারা হবে বলে শ্বাসিয়ে যায়। সহকারি প্রধান শিক্ষক নজির আহমেদ বলেন, কেউ শিক্ষকদের হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নেয়নি। প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিন বৃহস্পতিবার অনুপিস্থ ছিলেন, রোববারও যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসেননি। সে কারনেই আমি হাজিরা খাতা নিয়ে আটকে রেখেছি। আপনি হাজিরা খাতা আটকে রাখতে পারেন কি-না এমন প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান।
বিষয়টি জানার জন্য ইউনুছ হাওলাদারের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তার পূত্রবধূ মাহফুজা আক্তার রিসিভ করে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বশির গাজী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।