
তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বল , বাউফল
পটুয়াখালীর বাউফলে কাছিপাড়া ইউপির ফজলুর রহমান রাহিমিয়া দারুল উলুম নুরানি হাফিজি মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে হত্যা করে একই মাদরাসার সহপাঠী এক শিক্ষার্থী। শনিবার রাতে হত্যাকারী নিজেই নিহতের লাশ সনাক্ত করে ও বাউফল থানার পুলিশ উদ্ধার করে । রবিবার সকালে শিশুটির লাশ ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসাঃ হামিদা বেগম বাদী হয়ে হত্যাকারী ইসমাইলকে প্রধান আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোঃ আতিকুর রহমান (১১) । সে পাকডাল গ্রামের ফজলুর রহমান রাহিমীয়া দারুল উলুম নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রসার হেফজ বিভাগের ছাত্র । কুরআনের ১১ পাড়া মুখস্ত করার কাজ সম্পন্ন করছিলা। আতিক বাকেরগঞ্জ উপজলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নর মধ্য জিরাইল গ্রামর বাসিদা মোঃ সরোয়ার সরদারের ছেলে। বাবা পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। দুই ভাইবোনের মধ্যে আতিক বাবা-মায়ের বড় সন্তান ছিল।
নিহত আতিকের মামা হাসান মাহমুদ বলেন, তিন বছর আগ আমার ভাগ্নে মোঃ আতিকুর রহমান স্থানীয় ফজলুর রহমান রাহিমীয়া দারুল উলুম নুরানি হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ বিভাগ ভর্তি হয়েছিল। গত শনিবার সকাল থেকে আতিককে পাওয়া যায় না বলে মাদরাসার কর্তপক্ষ আমাকে জানায়। খবর পেয়ে মাদরাসায় গিয়ে ছাত্রদের কাছে জানতে পারি শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসমাইলর সঙ্গে আতিকর মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপার ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদ করল এলোমেলো কথা বলে । এতে আমার সন্দেহ হয়। পরে চাপ প্রয়োগ করলে এক পর্যায়ে আতিক হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয় ইসমাইল। লাশ কোথায় রেখেছে জানতে চাইলে ইসমাইল পাশ্ববর্তী মসজিদের সেপটি ট্যাংকির কাছে জানায়। সেখানে আতিকের লাশ দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ইসমাইলক আটক করে পুলিশে সোপার্দ করে। ইসমাইল পাশ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার মজিবর রহমান হাওলাদারের ছেলে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকর ছায়া নেমে এসেছে। মাদরাসায় এসে পুলিশ আটককত ইসমাইল ও মাদরাসার শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় স্থানীয়রা লাশের পরিবর্ত লাশ চাই স্লোগান তুলে প্রশাসনর উপস্থিতিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং মাদরাসায় ভাংচুর চালায়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার হবে বলে স্থানীয়দর আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্তনে আসে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এটিএম আরিচুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল নিয়া আমি ঘটনাস্থলে গিয়ছি। আতিকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানা হয়েছে।