
দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড় কৃষ্ণনগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিথিতে প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির যোগ সাজোশে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অবৈধ উপায়ে সরকারি বেতন ভাতা গ্রহণের রহস্য মিশ্রিত অভিযোগ ।
অনুসন্ধানে জানা যায়; সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন মোল্যা জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আনোয়ার হোসেন মোল্লা বিদ্যালয়ে অফিস সময়ে আসা বন্ধ করে আত্ন গোপন রয়েছে। দপ্তরি ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে প্রতি মাসে দুই তিন বার বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ২৯ জুন পর্যন্ত তার স্বাক্ষর মিলে । তবে কেন প্রধান শিক্ষক শাক দিয়ে মাছ ঢাকছে। সচেতন মহলের ধারনা প্রাধান শিক্ষক এস এ মান্নান সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন মোল্যার অনুপস্থিতির সুযোগে দীর্ঘ এক বছর যাবৎ বেতন ভাতা কারসাজি করছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে আনোয়ার হোসেন মুল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন, আনোয়ার হোসেন মোল্লা মাঝে মধ্যে শিক্ষকদের কক্ষে বসতেন, কিন্তু গত ১০-১২ দিন ধরে তিনি বিদ্যালয়ে আসছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এ মন্নান জানান, আনোয়ার হোসেন মোল্লা একজন গ্রন্থাগারিক পদে চাকরি করতেন এবং সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তার তেমন কোনো ক্লাস না থাকায় তিনি বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কক্ষে সময় কাটিয়ে চলে যেতেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ২৯ জুন পর্যন্ত হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর দেখা গেছে এবং তিনি অনুপস্থিত থাকাকালে পিয়ন কক্ষ খুলে দিলে তিনি স্বাক্ষর করে চলে গেছেন।কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিদ্যালয়ের স্বার্থে তিনি ম্যানেজিং কমিটিকে জানাবেন বলেন ।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, আনোয়ার হোসেনের দায়িত্বে অনিয়মিত থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল, তবে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার বিষয়টি তিনি জানতেন না। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাজিরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজউদ্দৌলা জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের অনিয়ম সম্পর্কে তার জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।