
মাহমুদ লিটন, লালমোহন
ভোলার লালমোহনের সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে জেলেদের হয়রানি, জাল, নৌকা ও লঙগর আটকিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লালমোহনের তেতুলিয়া ও মেঘনা নদীর অসহায় জেলেদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন তিনি। সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুলিশ প্রশাসন না নিয়ে নিজে একা নদীতে অভিযান পরিচালনারও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী এলাকায় রয়েছে তার নিজস্ব মাঝি। তাদেরকে নিয়ে তানভীর আহমেদ অভিযান পরিচালনা করে জেলেদের জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ আদায় করে নিচ্ছেন। তেমনি এক ভুক্তভোগী তেতুলিয়া নদীর পাড়ে বেড়ীবাধে সরকারি জমিতে বসবাস করা জামাল মাঝি। তিনি জানান, গত ১২ জানুয়ারি তেতুলিয়া নদীতে নিজের ছেলেসহ তিনজন মিলে নিয়ে মাছ ধরতে যায়। সন্ধ্যার দিকে মৎস্য অফিসের তানভীর হঠাৎ স্পীড বোর্ড নিয়ে আমাদের তাড়া করে আমাদেরকে নৌকাসহ নদীর মধ্যে চরে নিয়ে যায়। আমাদের কোনা কথা না শুনে তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। আমাদেরকে জেল দিবে, রিমান্ডে নিবে, জাল, নৌকা জব্দ করা হবে। তার কথায় আমরা ভয় পেয়ে যায়। এরপর তার সাথে আসা নৌকার জসিম মাঝি আমদের পক্ষে সুপারিশ করলে তিনি তখন বলেন তোমরা ৩ জনের জরিমানা ৭হাজার ৫শত এবং নৌকার জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। আমরা তার হাতে পায়ে ধরে বলি স্যার আমরা এত টাকা কোথায় পাব। এরপর সে বলে তোমাদের নৌকা জাল সব নিয়ে যাব। পরে ওই জসিম মাঝি ও তার ভাই স্পীড বোর্ড ড্রাইভার মনির মাঝির জিম্বায় ১৪ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। একদিন পর আমি সুদের উপর টাকা নিয়ে জসিম মাঝির ভাই মনির মাঝির কাছে ১৪ হাজার টাকা প্রদান করি। এভাবে আমাদের মতো নিরিহ জেলেদেরকে জিম্মি করে তিনি টাকা ইনকাম করছেন।
জামাল মাঝি আরো বলেন, আমরা নিরিহ জেলেরা সরকারি নিয়ম মেনে নদীতে শান্তিতে মাছ ধরতে চাই। মৎস্য অফিসকে কোন টাকা পয়সা দিতে চায় না এবং এই তানভীর স্যার লালমোহনে আসার পর থেকে জেলেদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নিয়েছে। আমার কাছ থেকে যে ১৪ হাজার টাকা নিয়েছে আমি তা ফেরত চাই এবং তার অন্যায়ের কঠোর বিচার চাই।
সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদকে তার রিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা ইেন। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয় হবে।
লালমোহনের সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে জেলেদের হয়রানির ব্যাপারে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদেও দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন পরবর্তীতে বিষয়টি আমি দেখবো ।