
দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
শরীয়তপুরের মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ উপেক্ষা করে নিয়মিত অফিস করার এবং অবৈধ উপায়ে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবর সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি বি এম মোজাম্মেল হকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘চশমা’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও তার বিজয় ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমর্থনের ফসল, তবে তার বিরুদ্ধে এখন একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, চেক জালিয়াতির একটি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই আদেশকে পাত্তা না দিয়ে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে যাচ্ছেন এবং দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। “স্বৈরাচারের দোসর হয়ে দিব্যি আলোয় দুঃসাহসিক গল্প তৈরি করছেন” – এই ধরনের মন্তব্য স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে শোনা যাচ্ছে। এটি আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়াও, চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে বর্তমান সময়ে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. আশ্রয়ণের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়: ভূমিহীন ও দরিদ্রদের জন্য সরকার প্রদত্ত আশ্রয়ণের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
২. সরকারি ডিপ টিউবওয়েল বাবদ অর্থ গ্রহণ: কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য সরকারি ডিপ টিউবওয়েল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ।
৩. ঘর-দোকানের ট্যাক্স আত্মসাৎ: ইউনিয়নবাসীর কাছ থেকে আদায়কৃত ঘর ও দোকানের লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা।
৪. দরিদ্র কৃষকদের সরকারি সার বাজারে বিক্রি: কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকি মূল্যের সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি করা, যার ফলে দরিদ্র কৃষকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই সকল অভিযোগের মোট হিসাব ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
মূলনা ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামী লীগে দুটি অংশের মধ্যে আব্দুল জলিল মাদবর একটি অংশের নেতৃত্ব দেন, যার প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ইকবাল হোসেন অপুর অনুসারীরা। এই দলীয় বিভাজন চেয়ারম্যানের অনিয়মের সুযোগ করে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও, গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন মহল।