
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ
রংপুরের কুড়িগ্রামের দিলীপ (৬০) শ্রমিকের কাজ করতো পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়। তিনি নীলগঞ্জ ব্রিজের পাশে একটি ভাড়াটিয়া বাসায় স্ত্রী কে নিয়ে থাকতো। দিনমজুরি দিলীপ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে কলাপাড়া হাসপাতালে মারা যায়। দিলীপ ও তার স্ত্রী রেনু রানী’র কলাপাড়ায় কোন আত্মীয়-স্বজন না থাকায় কলাপাড়া হাসপাতালের বারিন্দায় মৃত স্বামীর লাশের পাশে কান্না করছিলো স্ত্রী রেনু রানী। মৃত স্বামীর লাশের পাশে স্ত্রীর কান্নার দৃশ্য দেখে আশেপাশে লোকজন জানতে চাইলে রেনু রানী বলে আমাদের এখানে কেউ নয়, এবং তার মৃত স্বামী কে বাড়ি নিয়ে সৎকারে করতে যাওয়ার জন্য একটা টাকাও নাই। স্ত্রীর এমন আহাজারি দেখে উপজেলা ছাত্রদলের ১ নং সদস্য মোঃ জহিরুল ইসলাম মুন্সী, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফারুক, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান তারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মামুন শিকদার ও কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর হোসেন কে অবহিত করেন। যুবনেতা মামুন শিকদার ও এস এম আলমগীর হোসেন কিছু লোকের মাধ্যমে সাহায্য উঠিয়ে রাতেই কনকনে শীতের মধ্যে তারা উপস্থিত থেকে লাশ বাড়ি যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সহ মৃত স্বামীর লাশ সৎকারে জন্য সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয়রা বলতে থাকে একই বলে মানবতা।
কান্না কন্ঠে রেনু রানী বলেন, এ উপজেলায় আমাদের আপন বলতে কেউ নেই, তাই হতাশ হয়েছিলাম স্বামী লাশটি আব বাড়ি নিয়ে সৎকার পারবো না, স্বামীর বাড়ির লোকজন কে অবহিত করলেও টাকা-পয়সা খরচ করে লাশ নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি তারা। একপর্যায়ে এদের সহযোগিতায় আমার স্বামীর লাশ বাড়ি নেওয়ার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছে, এখন বাড়ি গিয়ে মৃত স্বামীর লাশ সৎকার করতে পারবো। আমি দোয়া করি ভগবানের কাছে আমাকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের জন্য।
এ ব্যাপারে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মামুন শিকদার বলেন, বিকেলে তার স্বামী কলাপাড়া হাসপাতালে মারা যায়, মৃত স্বামী লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা টাকাও ছিল না, মৃত স্বামীর লাশ পাশে কান্না করতে থাকে, আমার কিছু ছোট ভাইরা আমাকে অবহিত করলে আমি ওই ছোট ভাইদের এবং সাংবাদিক এস এম আলমগীর হোসেন কে সাথে নিয়ে তাদের সনাতন ধর্মের কিছু লোক সহ আমার কাছের কিছু মানুষের মাধ্যমে সাহায্য উঠিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ও তার মৃত স্বামীর লাশ গ্রামে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারপরও কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাতে বলেছি।
###