
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সর্বসাধারণের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই যেন এখন রোগী হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল জুড়ে চরম অপরিচ্ছন্নতা, তদারকির অভাব এবং নোংরা পরিবেশের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের ছাদে অবস্থিত পানির ট্যাংকগুলো দীর্ঘ দিন ধরে পরিষ্কার না করায় ভেতরে জমতে শুরু করেছে মোটা ময়লা ও শ্যাওলার আস্তরণ। ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার লার্ভাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণুর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এসব পানির ট্যাংক। এই অনিরাপদ ও দূষিত পানিই দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা। ফলে সুস্থ হতে এসে উল্টো নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাব কী, এখানের নোংরা পরিবেশ দেখে মানুষ এমনিতেই আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। ছাদের পানির ট্যাংকের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না, শ্যাওলা ও দুর্গন্ধ ভেসে আসে। ডেঙ্গুর এই সময়ে যদি হাসপাতালের পানির ট্যাংকেই মশার জীবাণু জন্মায়, তবে আমরা সাধারণ মানুষ যাব কোথায়?”
শুধু পানির সংকট বা নোংরামই নয়, হাসপাতালের শৌচাগার, বারান্দা এবং আশপাশের পরিবেশও বেশ অপরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকেই এই চরম অনিয়মের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে হাসপাতালের ছাদের পানির ট্যাংক পরিষ্কারকরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর জন্য ভোলা-২ আসনের এমপি আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।